পৃষ্ঠাসমূহ

Search Your Article

CS

 

Welcome to GoogleDG – your one-stop destination for free learning resources, guides, and digital tools.

At GoogleDG, we believe that knowledge should be accessible to everyone. Our mission is to provide readers with valuable ebooks, tutorials, and tech-related content that makes learning easier, faster, and more enjoyable.

What We Offer:

  • 📘 Free & Helpful Ebooks – covering education, technology, self-development, and more.

  • 💻 Step-by-Step Tutorials – practical guides on digital tools, apps, and software.

  • 🌐 Tech Updates & Tips – simplified information to keep you informed in the fast-changing digital world.

  • 🎯 Learning Support – resources designed to support students, professionals, and lifelong learners.

    Latest world News 

     

Our Vision

To create a digital knowledge hub where anyone, from beginners to advanced learners, can find trustworthy resources and grow their skills.

Why Choose Us?

✔ Simple explanations of complex topics
✔ 100% free access to resources
✔ Regularly updated content
✔ A community that values knowledge sharing

We are continuously working to expand our content library and provide readers with the most useful and relevant digital learning materials.

📩 If you’d like to connect, share feedback, or suggest topics, feel free to reach us through the Contact page.

Pageviews

Thursday, October 26, 2017

আমলকীর অপরিসীম গুনাবলী

আমলকী একটি অসাধারন পুষ্টিগুণে ভরপুর ভেষজ ফল। এছাড়া এটি ভেষজ চিকিৎসায় একটি বিখ্যাত উদ্ভিদ। আমলকির অনেক ভেষজ গুণ রয়েছে। আমাদের দেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশে প্রায় ৫০০০ হাজার বছরের বেশি সময় ধরে দেহের প্রতিরোধক ক্ষমতা বৃদ্ধিতে এবং দেহের পুনর্যৌবন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এই ছোট ফলটি।
হলদে সবুজ রঙের এই ফলটির রয়েছে আশ্চর্য ক্ষমতা। প্রতিদিন একটি আমলকি খাওয়ার অভ্যেস করা আমাদের বড় রোগ থেকে মুক্তি দিতে পারে।
সারা বিশ্ব জুড়ে বিভিন্ন ঋতুতে, বিভিন্ন আবহাওয়ায় মানুষ এই ফলটি খেয়ে থাকেন এবং ব্যবহার করে বিশেষভাবে এর টক, ঝাল, মিষ্টি ও তেঁতো স্বাদের জন্য। জেনে অবাক হবেন যে একটি আমলকীতে প্রায় ২০টি কমলার সমান ভিটামিন সি থাকে। ১০০ গ্রাম তাজা আমলকীতে থাকে প্রায় ৪৭০-৬৮০ মিলিগ্রাম খাঁটি ভিটামিন সি। বিজ্ঞানে এই ফলকে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে দেখানো হয়েছে।
প্রতিদিন এক গাদা ভিটামিন ট্যাবলেট না খেয়ে খান একটি করে আমলকী। কিংবা আমলকীর আচার। খেতে পারেন আমলকীর মোরব্বা কিংবা আমলকীর পাউডার ব্যবহার করতে পারেন রান্নায়। এই সামান্য আমলকী আপনার দেহের বিস্ময়কর উপকার করতে পারে।
আমরা অনেকেই জানি ভিটামিন সি কেন আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন সি দেহকে ফ্রি র‍্যাডিকেলের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত রাখে, হাড়কে মজবুত করে, প্রতিরোধক ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে এবং leukocytes বা শ্বেত কনিকা উৎপাদন করে। আমলকীতে শুধু যে ভিটামিন সি-ই থাকে তা নয়। এতে আরো থাকে ফ্লেভোনয়েড, ট্যানিন এবং খনিজ পদার্থ। আমলকী খেলে সর্দি, কাশি থেকে শুরু করে অ্যাজমা, ব্রংকাইটিসের মত শ্বাসপ্রশ্বাস জনিত রোগগুলো থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়। তাহলে চলুন জেনে নিই।

আমলকীর কিছু উপকারিতা সম্পর্কে এখানে বলা হল

ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে  উপকারী

যকৃতের এবং অগ্নাশয়ের প্রদাহ, ফোলা, ব্যাথা দূর করতে এবং সঠিকভাবে অগ্নাশয়ের কাজে সাহায্য করে। নিয়মিত আমলকী খেলে তা ইন্সুলিনের নির্গমনকে নিয়ন্ত্রণ করে ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তের শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে বিশেষ করে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে। গবেষণায় দেখা যায় যে মাত্র ৩ গ্রাম আমলকীর গুঁড়ো অন্য যেকোনো ডায়াবেটিসের ঔষধের চেয়ে বেশি কার্যকরী। ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রেখে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। কোলেস্টেরল লেভেলেও কম রাখাতে যথেষ্ট সাহায্য করে।

 যকৃতের বিষাক্ততা দূর করতে

এটি হৃদযন্ত্র, ফুসফুসকে শক্তিশালী করে ও মস্তিষ্কের শক্তিবর্ধন করে। আমলকীর আচার বা মোরব্বা মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রের দুর্বলতা দূর করে। গবেষণায় দেখা যায় যে আমলকী যকৃতে বিভিন্ন ধরনের ঔষধ বিশেষ করে যক্ষ্মা রোগের ঔষধের নেতিবাচক প্রভাব পরার ফলে যেসব বিষাক্ততার সৃষ্টি হয় তা দূর করতে সাহায্য করে।

ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে

যখন দেহ ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করে তখন দেহের জন্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি অনেক সময় ক্যান্সার প্রতিরোধও করতে পারে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষের প্রদাহ এবং নষ্ট হওয়ার পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। আর আমলকীর মধ্যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিদ্যমান। সুতরাং আমলকী ক্যান্সারের বিরুদ্ধে অনেক উপকার।

গ্যাস্টিকের সমস্যা কম করতে

আমাদের দেহে কোন রোগ হলে আমরা অনেক বেশি কষ্ট পায়। বিশেষ করে গ্যাস্টিকের সমস্যা। আর এই গ্যাস্টিকের সমস্যাই আমলকীর কোন তুলনা হয় না। এক গ্লাস দুধ বা পানির মধ্যে আমলকী গুঁড়ো ও সামান্য চিনি মিশিয়ে দিনে দু’বার খেতে পারেন। এ্যাসিডেটের সমস্যা কম রাখতে সাহায্য করবে।

 পেটের ব্যাথা দূর করতে

আমলকীর রস কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলসের সমস্যা দূর করতে পারে। এছাড়াও এটি পেটের গোলযোগ,  পেটের ব্যাথা, ডায়রিয়া, বমি, পেট মোচড়ানো, প্রদাহ সহ বিভিন্ন ধরনের হজমজনিত পেটের সমস্যা আমলকীর দ্বারা দূর করা সম্ভব। আধা চূর্ণ শুষ্ক ফল এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে খেলে হজম সমস্যা কেটে যাবে। খাবারের সঙ্গে আমলকীর আচার হজমে সাহায্য করে।

দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করতে

আমলকী চোখ ভাল রাখার জন্য উপকারী। এতে রয়েছে ফাইটো-কেমিক্যাল যা চোখের সঙ্গে জড়িও ডিজেনারেশন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। আমলকীর রস দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এছড়াও চোখের বিভিন্ন সমস্যা যেমন চোখের প্রদাহ। চোখ চুলকানি বা পানি পড়ার সমস্যা থেকে রেহাই দেয়।

 সুন্দর চুল এবং নখের উপকার করতে

আমলকী দেহ কোষের পুনর্গঠনে যার ফলে দেহে পুনর্যৌবন লাভ করে। নিয়মিত আমলকী খেলে এবং ব্যবহার করলে চুল পড়া বন্ধ হয়, বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়, অকালে চুল পেকে যাওয়া প্রতিরোধ করে এবং আজকাল চুলের খুশকি দূর করার প্রাকৃতিক ঘরোয়া উপায় হচ্ছে এই আমলকী থেকেই। আমলকী চুলের সাথে সাথে হাতের নখও  ভাল রাখে। শ্যাম্পু, ফেসিয়াল ক্রিম, চুলের মাস্ক এবং অন্যান্য আরো অনেক কিছুতেই আমলকী ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

ত্বকের সমস্যা দূর করতে

ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে আমলকীর ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ব্রণ, ফুসকুড়ি, রুক্ষ ত্বক, ইত্যাদি ত্বকের বিভিন্ন ধরনের সমস্যাসহ ত্বকের অনেক ধরনের প্রদাহ দূর করতে পারে এই আমলকী। প্রতিদিন সকালে আমলকীর রসের সঙ্গে মধু মিশে খাওয়া যেতে পারে। এতে ত্বকের কালো দাগ দূর হবে ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে।

চুলের সুরক্ষতায়

আমলকী চুলের টনিক হিসেবে কাজ করে এবং চুলের পরিচর্যার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি কেবল চুলের গোড়া মজবুত করে তা নয়, এটি চুলের বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। এটি চুলের খুসকির সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে ও পাকা চুল প্রতিরোধ করে। শুকনো আমলকীর গুঁড়ো সামান্য কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে ১ ঘন্টা রেখে দিয়ে তারপর সেই মিশ্রণটি পুরো চুলে ম্যাসেজ করে লাগিয়ে আধা থেকে ১ ঘণ্টা রাখতে হবে। তারপর ধুয়ে ফেলুন। এর ফলে দ্রুত চুলের বৃদ্ধি হবে, আর্দ্রতা বজায় থাকবে, চুল হবে মসৃন এবং উজ্জ্বল।

দাঁত ও মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে

এছাড়াও প্রতিদিন আমলকির রস খেলে নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর হয় এবং দাঁত শক্ত থাকে। আমলকী লোহিত রক্তকণিকার সংখ্যা বাড়িয়ে তুলে দাঁত ভাল রাখে।

রুচি ও স্বাদ বাড়াতে আমলকী

আমলকীর টক ও তেতো মুখে রুচি ও স্বাদ বাড়ায়। রুচি বৃদ্ধি ও খিদে বাড়ানোর জন্য আমলকী গুঁড়োর সঙ্গে সামান্য মধু ও মাখন মিশিয়ে খাওয়ার আগে খেতে পারেন।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও মানসিক চাপ কমাতে

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মানসিক চাপ কমায়। কফ, বমি, অনিদ্রা, ব্যথা-বেদনায় আমলকী অনেক উপকারী। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর সাথে সাথে ব্রঙ্কাইটিস ও এ্যাজমার জন্য আমলকী উপকারি প্রতিরোধ  হিসেবে কাজ করে।

ওজন কমাতে সাহায্য করে

আমাদের দেহের একটা বড় সমস্যা হল মেদ বেড়ে যাওয়া। এটা নিয়ে আমরা অনেক বেশি চিন্তা করে থাকি। কিন্তু আপনি যদি প্রতিদিন একটা করে আমলকী খান, তাহলে দেহের এই মেদ কমানো সমভাব। কারন শরীরের অপ্রয়োজনীয় ফ্যাট ঝরাতে আমলকী অনেক সাহায্য করে। শরীর ঠাণ্ডা রাখে, শরীরের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে, পেশী মজবুত করে।

যৌবন ধরে রাখতে আমলকী

আজকাল আমাদের বিভিন্ন মানসিক চাপ ও কাজের চাপে খুব দ্রুত বয়স বেশি বলে মনে হয়। কিন্তু আপনি যদি নিয়মিত আমলকী খেতে থাকেন, তাহলে আমলকীর এ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ফ্রি র‌্যাডিকালস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। কারন বুড়িয়ে যাওয়া ও সেল ডিজেনারেশনের অন্যতম কারণ এই ফ্রি র‌্যাডিকালস। আর আমলকীর  ফ্রি র‌্যাডিকালস প্রতিরোধের ফলে সৌন্দর্য আবার ফিরে আসবে। সুতরাং যৌবন ধরে রাখতে আমলকীর ভূমিকা অপরিসীম।

সর্দি-কাশি ও রক্তশূন্যতা দূরীকরণে

আমলকী রক্তশূন্যতা দূরীকরণে ও সর্দি-কাশিতে অনেক উপকার করে থাকে। আপনি যদি সর্দি-কাশি, পেটের পীড়া ও রক্তশূন্যতাই আমলকী ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে বেশ ভালো ফলাফল পাবেন। এই জন্য নিয়মিত আমলকী খাওয়া খুবই ভাল।

No comments:

Post a Comment